তিন দেশ থেকে ৬৬৪ কোটি টাকার সার ক্রয়ে সরকারের অনুমোদন

দেশের কৃষি উৎপাদন ও সার সরবরাহ নিশ্চিতে তিন দেশ থেকে মোট এক লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৬৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা

বুধবার (২২ অক্টোবর) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারের ক্রয় কমিটির ৪২তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সৌদি আরব, মরক্কো এবং রাশিয়া—এই তিন দেশ থেকে তিন ধরনের সার আমদানি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার (সৌদি আরবের SABIC Agri-Nutrients Company থেকে),
  • ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার (মরক্কোর OCP Nutrien Crops থেকে),
  • এবং ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার (রাশিয়ার JSC Foreign Economic Corporation “Prodintorg” থেকে)।

সার আমদানির আর্থিক বিবরণ:

  • ডিএপি সার (৪০ হাজার মেট্রিক টন): ব্যয় প্রায় ৩৬০.০২ কোটি টাকা, প্রতি টনের মূল্য ৭৩৫.৩৩ মার্কিন ডলার।
  • এমওপি সার (৩৫ হাজার মেট্রিক টন): ব্যয় ১৫২.৬২ কোটি টাকা, প্রতি টনের মূল্য ৩৫৬.২৫ মার্কিন ডলার।
  • ইউরিয়া সার (৩০ হাজার মেট্রিক টন): ব্যয় ১৫১.৭৮ কোটি টাকা, প্রতি টনের মূল্য ৪১৩.৩৩ মার্কিন ডলার।

এই তিন প্রস্তাবের বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এছাড়া সভায় সার সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বরগুনায় ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি বাফার গোডাউন নির্মাণের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এম/এস এমবিএল-আরইএল (জেভি), ঢাকা, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা

সরকার জানিয়েছে, সার সরবরাহে কোনো সংকট না হয় তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার সংরক্ষণ, বিতরণ ও মজুত ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৃষকদের সময়মতো সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে সার আমদানি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে, যাতে আসন্ন মৌসুমে কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন থাকে।