নারীর কর্মসংস্থান ও শিশু সুরক্ষায় গৃহভিত্তিক দিবাযত্ন কেন্দ্র: পিকেএসএফ-বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে কর্মজীবী মায়েদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হলো শিশুদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ের অভাব। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ শতাংশ অভিভাবক শুধুমাত্র মানসম্মত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবে কাজ ছাড়তে বাধ্য হন এবং অর্ধেকেরও বেশি অভিভাবক সন্তান লালন-পালনকে তাদের ক্যারিয়ারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের ও অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে কর্মরত নারীদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা যেমন প্রকট, তেমনি এর ফলে শিশুদের সঠিক বিকাশও অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়। এ আর্থ-সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবং ‘কেয়ার ইকোনমি’কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘RAISE’ প্রকল্পের আওতায় ‘হোম-বেজড চাইল্ড কেয়ার’ বা গৃহভিত্তিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র চালুর বিষয়ে একটি পরামর্শ সভা ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। পিকেএসএফ ভবন-১-এ আয়োজিত এ সভায় মূলত বাংলাদেশে এ মডেলটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা, ভবিষ্যৎ কৌশল এবং চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় পিকেএসএফ-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মশিয়ার রহমান সম্ভাব্য এ কার্যক্রমকে প্রতিষ্ঠানের একটি ‘ফ্ল্যাগশিপ কার্যক্রম’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্বব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার আনিকা রহমান শিশু পরিচর্যা কার্যক্রমকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক হিসেবে তুলে ধরেন। পিকেএসএফ-এর মহাব্যবস্থাপক দিলীপ কুমার চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রস্তাবিত মডেলের আওতায় দেশজুড়ে প্রায় ২,৫০০ জন দক্ষ ‘চাইল্ড কেয়ার ওয়ার্কফোর্স’ তৈরি এবং প্রায় ৮০০ নারীকে চাইল্ড কেয়ার মাইক্রো-এন্টারপ্রেনার হিসেবে গড়ে তোলার একটি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থাপিত উপস্থাপনাগুলোতে বাংলাদেশের বাস্তবতায় চাইল্ড কেয়ারের বর্তমান চিত্র এবং বিশ্বব্যাপী সফল আন্তর্জাতিক মডেলগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত শিক্ষা নিয়ে ব্রেইনস্টর্মিং করা হয়, যেখানে ১৭টি সহযোগী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে গঠনমূলক মতামত প্রদান করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিবৃন্দ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত স্থানের অভাব, স্বল্প আয়ের মায়েদের ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতা এবং সামাজিক আস্থার সংকটের মতো সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে নিবিড় আলোচনা করেন। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে একটি কার্যকর ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (SOP) বা নীতিমালা প্রণয়ন এবং কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশু পরিচর্যাকে একটি সম্মানজনক ও পেশাদার মর্যাদা প্রদান করার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি টেকসই মডেল দাঁড় করানো সম্ভব বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।